ভারতীয় জনতা মজদুর ট্রেড ইউনিয়ন নেতা বৈদ্য দে ভারতীয় জন বার্তা পত্রিকার জন্য আমাকে শ্রমিক আন্দোলনের উপর একটি লেখা দেবার অনুরোধ করে ছিলেন , সাধন তালুকদার ও বৈদ্য দে নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টির অনুমোদিত ,এই সংগঠন শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে গভীর ভাবে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের সংগঠন কে নিয়ে যাবার প্রচেষ্টা করছেন । তাই আমার মনে হয়েছে একটা বিস্তীর্ণ ক্ষেত্র পড়ে আছে যদি এখানে আমরা কাজ করতে পারি তাহলে আমরা বিরাট সাফল্য পেতে পারি আর ভারতীয় জনতা পার্টিকে তৃণমুল স্তরে নিয়ে যেতে পারি । আঘাত টা মা মাটি মানুষের নাম করে রাজ্যের ক্ষমতা তে বসেছেন যে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী তার রাজ্য যে বৈষম্য দেখতে পাছি তা তুলে ধরে ভারতীয় জনতা মজদুর ট্রেড ইউনিয়ন কে শক্তিশালি ভিত্তি দিতে পারব ।
আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু মজুরি খাতে নারী কৃষিশ্রমিকদের ক্ষেত্রে বৈষম্য। নারীরা বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ন্যায্য মজুির থেকে বঞ্চিত হন। এ বিষয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। আমাদের সংবিধানেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।কৃষিতে নারীর অবদান নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই; বরং টেকসই কৃষিব্যবস্থায় নারীর ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। বাংলার কৃষি খাতের সাফল্যের পেছনেও নারীদের বিশাল অবদান রয়েছে, অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই।
অথচ রাজ্যে একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী তার কাছে মা মাটি মানুষর অনেক প্রত্যাশা ছিল তা ব্যর্থ হয়েছে । তাই শ্রমিক আন্দোলনে কৃষি শ্রমিক দের নিয়ে এক শক্তিশালি সংগঠন জরুরি যার অভাব ভারতীয় জনতা ট্রেড ইউনিয়ন পুরন করতে পারে । অসংগঠিত ক্ষেত্রের সাথে কৃষি শ্রমিক বিশেষ করে নারী শ্রমিক দের প্রতি বৈষম্য নিয়ে জোরাল প্রতিবাদ করতে হবে ।
গ্রামাঞ্চলের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা দেখছি, একজন নারী কৃষিশ্রমিক একজন পুরুষের চেয়ে ৪৩ শতাংশ কম মজুরি পেয়ে থাকেন শুধু নারী হওয়ার কারণে। কৃষিতে নারীর অবদান নিয়ে আমাদের বিশ্লেষণ বলে কৃষিবিষয়ক অন্তত ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ কাজে নারীরা পুরুষের চেয়ে বেশি সম্পৃক্ত,।পুরুষ শ্রমিক নারী শ্রমিকদের চেয়ে বেশি কাজ করেন, তাই তাঁরা বেশি পারিশ্রমিক পেতেই পারেন, এ ধারণার কোনো যৌক্তিক গ্রহণযোগ্যতা নেই। আমরা আরও দেখেছি যে জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত প্রতিকূলতা এবং সমাজ আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে নারী শ্রমিকেরা পুরুষদের তুলনায় বছরে প্রায় ১০০ দিন কম কাজের সুযোগ পান।
মজুরিবৈষম্য আর পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজের সুযোগ কম পাওয়ায় বছরে একজন নারী শ্রমিক পুরুষের তুলনায় কমপক্ষে ২৪ হাজার টাকা কম পেয়ে থাকেন।
নারী উন্নয়ন নীতির দিকে তাকালে আমরা দেখি, নারী কৃষিশ্রমিকদের মজুরিবৈষম্যের বিষয়টি নীতিনির্ধারকেরা ঠিকই অনুধাবন করেছেন। নারী কৃষিশ্রমিকেরা মজুরির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন, যা নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পথে বড় অন্তরায়।
রাজ্যের ভুমি সংস্কার কৃষি দপ্তরের মন্ত্রী স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে তার দপ্তরে দুর্নীতির বাস্তু ঘুঘুর বাসা রয়েছে যেখানে বড় দুর্নীতি ঘটছে আর তিনি নীরব দর্শক । কৃষি খামারের মজুরেরা ন্যায্য মজুরি পর্যন্ত পান না । BLRO অফিসে দুর্নীতি এমন অবস্থা তে গেছে একজনের জমি অন্যের নামে হয়ে যায় পয়সা ও রাজনৈতিক ক্ষমতার বলে । যেটা তিনি নিজেও জানেন ।
নারী-পুরুষ উভয়ের ন্যূনতম মজুরি তিনি নির্ধারিত করতে পারেনি এখনকার বাজারদরের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ । কৃষিশ্রম মজুরি যুগোপযোগী করে নারী ও পুরুষ উভয়ের সমমজুরি টাকার অঙ্কে পুননির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি। যা আমরা একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা করতেই পারি ।
আমরা বিশ্বাস করি, সবার সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে কৃষিতে নারী–পুরুষ মজুরিবৈষম্য দূরীকরণ সম্ভব, যা নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।বৈষম্যের কারণে প্রতিবছর একজন নারী প্রায় ২৪ হাজার টাকা কম উপার্জন করছেন, তা কিন্তু তাঁদের আর্থসামাজিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন করছে।
এই বৈষম্য নিরসনে বড় ধরনের একটি সমস্যা হলো লিঙ্গবৈষম্য, যা আসলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ভেতর জেঁকে বসার দরুন তাঁরা নারী শ্রমিকদের সমমজুরি দিতে নারাজ।
নারী শ্রমিকেরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার না করতে পারার কারণে কর্মক্ষেত্রে যেন পিছিয়ে না পড়েন, সে বিষয়েও আমাদের লক্ষ রাখতে হবে।মাঠে আমরা পুরুষের সমান কাজ করলেও তাঁদের তুলনায় নারী দের মজুরি কম। সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত টানা কাজ করতে হয়। জমির মালিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললে তাঁরা অন্য গ্রাম থেকে শ্রমিক এনে কাজ করানোর হুমকি দেন।শ্রমিকদের মাঠপর্যায়ে সংগঠন না থাকার কারণে তাঁদের দাবিদাওয়া সহজে ওপর মহলের কাছে তুলে ধরতে পারছেন না।
ভারতীয় জনতা মজদুর ট্রেড ইউনিয়ন কে মাঠ পর্যায় এ সংগঠন গড়ে এদের সংগঠিত খুব জরুরি । আগামী যুদ্ধকালীন তৎপরতা তে নেমে পড়তে হবে । এই সাফল্য এনে দেবে যুগান্তর কারী ঘটনা যা বাংলার রাজনীতি কেউ আজ পর্যন্ত করে নি ।তবে নারীর সমমজুরির সঙ্গে সমাজের প্রতিটি ধাপে নারীর সমক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই আমাদের সবাইকে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।পুরুষ শ্রমিকেরা ভারী কাজ করতে পারেন, এই অজুহাত দেখিয়ে জমির মালিকেরা তাঁদের অতিরিক্ত টাকা দেন। কিন্তু নারী শ্রমিকেরা পুরুষদের মতো কাজে ঘন ঘন বিরতি নেন না। বরং নারী শ্রমিকেরা টানা বিভিন্ন রকম কাজে দিনভর ব্যস্ত থাকেন। এখন বছরে যদি আমাদের অতিরিক্ত ২৪ হাজার টাকা আয় করার সুযোগ হয়, সেটা আমাদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক।এলাকার জমির মালিকেরা মিলে ঠিক করেন যেসব নারী শ্রমিক ভারী কাজ করেন, তাঁদের ৫০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হবে। অন্যদিকে দুর্বল বা কম কাজ করা নারীর জন্য ৩০ টাকা বাড়ানো হবে। বর্তমানে আমাদের নারী কৃষিশ্রমিকদের একটি সংগঠন গড়ে তোলা জরুরী । আমরা একসঙ্গে হয়ে আমাদের অধিকার আদায়ে কাজ করতে হবে ।
নারী শ্রমিকদের একত্র করার জন্য কয়েকটি দল গঠন করা দরকার যেন তাঁরা তাঁদের অধিকার আদায়ে সচেতন হয়ে উঠতে পারেন।
নারী কৃষিশ্রমিকেরা যখন তাঁদের ন্যায্য মজুরির জন্য জমির মালিকদের সঙ্গে দর-কষাকষি করতেন, তখন তাঁরা বাইরের গ্রাম থেকে অন্য শ্রমিক এনে কাজ করানো শুরু করেন। আমরা তখন তাঁদের পরামর্শ দিই, যেন তাঁরাই তাঁদের পাশের গ্রামের নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলেন।
পাশাপাশি সামাজিক সেবাগুলো কীভাবে এসব শ্রমিকের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, এ বিষয়েও আমাদের কাজ করতে হবে । একসময় নারীরা সামাজিক নানা রকম প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হলেও এখন সে অবস্থার উন্নতি হয়েছে।একজন শ্রমিক তাঁর কর্মসময়ের বিনিময়ে যে আয় করেন, তা অতিনগণ্য। তাই আমাদের চেষ্টা করতে হবে, উন্নয়নের ক্রমধারার সঙ্গে কীভাবে একজন শ্রমিকের কাজকে আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন করা যায় এবং তাঁকে কমর্মুখী করে তোলা যায়।
একজন শ্রমিককে কেবল একটি পেশায় আটকে না রেখে তাঁকে বহুমুখী আয়ে সাহায্য করা যেতে পারে। কারণ, দেখা যায়, দেশের কোনো অঞ্চলে শ্রমিক বেকার বসে আছেন, আবার কোনো অঞ্চলে কাজের সময় শ্রমিকের সংকট দেখা যায়।
বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাকে কাজে লাগানো যায়। এ ছাড়া ভবিষ্যতে আধুনিক প্রযুক্তি কৃষিতে যুক্ত হলে সেটা কৃষিশ্রমিকদের কাজের ক্ষেত্রকে আরও কমিয়ে আনবে।
কৃষিপণ্য বাজারজাতের আগে প্রক্রিয়াজাতকরণের যে ২২টি ধাপ রয়েছে, তার প্রায় ১৭টি ধাপে নারীর অংশ গ্রহণ করে সেখানে সংগঠন প্রসার করতে হবে ।
No comments:
Post a Comment